🏙️ বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে গত কয়েক দশকে অ্যালার্জি রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (নাক দিয়ে পানি পড়া বা বন্ধ থাকা), হাঁপানি, ত্বকের চুলকানি, চোখ লাল হওয়া এবং খাদ্যজনিত অ্যালার্জির প্রবণতা বেড়েছে। এ বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত কারণ কাজ করছে—শহুরে জীবনধারা, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন।
🌫️ দূষণ ও নগরজীবনের প্রভাব-
শহরে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং বায়ুবাহিত পলিন শ্বাসনালিকে ক্রমাগত উত্তেজিত ও সংবেদনশীল করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে নাক ও ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা অ্যালার্জি ও হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ায়।
অ্যালার্জির ঝুঁকি কেবল বাইরের পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ঘরের ভেতরেও রয়েছে নানা অ্যালার্জেন। ধুলোবালি, ধুলোকীট (ডাস্ট মাইট), পোষা প্রাণীর লোম, নরম খেলনা, ভারী পর্দা, এমনকি সুগন্ধি বা তেলের ধোঁয়াও শ্বাসতন্ত্রে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আধুনিক নগরজীবনে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান এবং এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্যানের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ঘরে অ্যালার্জেন জমে থাকার প্রবণতা আরও বাড়ছে।
🌡️ জলবায়ু পরিবর্তন ও পলিনের বিস্তার-
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে উদ্ভিদ অধিক পরিমাণে পলিন উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে পলিনের মৌসুম দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর ফলে অ্যালার্জির উপসর্গ দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয় এবং আক্রান্ত মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।
শহরে গাছপালার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও উচ্চমাত্রার বায়ু দূষণ পলিনের সঙ্গে মিশে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা আরও জটিল করে তোলে। ফলে শহরাঞ্চলে অ্যালার্জির তীব্রতা অনেক ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি হতে পারে।
🍔 খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন-
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও অ্যালার্জি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, উচ্চমাত্রার চিনি এবং কম আঁশযুক্ত খাদ্য অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণু ভারসাম্য ব্যাহত করতে পারে, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার খুব দেরিতে পরিচয় করানোর প্রবণতাও কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
🛡️ প্রতিরোধ ও সচেতনতা-
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।কার্যকর কিছু পদক্ষেপ হলো—
🔸পরিচিত অ্যালার্জেন (ধুলো, পলিন, পশুর লোম, নির্দিষ্ট খাবার) এড়িয়ে চলা
🔸ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং বিছানাপত্র নিয়মিত গরম পানিতে ধোয়া
🔸বেশি দূষিত বা পলিনের দিনে মাস্ক ব্যবহার
🔸ঘরের পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা
🔸গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
🌳 নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজন-
অ্যালার্জি মোকাবিলায় শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমন্বিত নীতিগত ব্যবস্থা। নগর বায়ু মান উন্নয়ন, শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং খোলা সবুজ জায়গা বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্জির প্রকোপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অ্যালার্জি এখন কেবল ব্যক্তিগত অসুস্থতা নয়; এটি একটি নগর ও পরিবেশ-সম্পর্কিত জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। সচেতন জীবনযাপন, পরিবেশ রক্ষা এবং কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
#MRKR #allergy #health #pollution #healthcare #healthylifestyle






