💊💧কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে—কিছু ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট, শরীরে পানির ঘাটতি, কিংবা পর্যাপ্ত নড়াচড়া না করা। কিন্তু এর পেছনে অতি ক্ষুদ্র একটি কারণও থাকতে পারে—অন্ত্রে থাকা বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
🧫⚖️ অন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে কী হয়-
অন্ত্রে নানা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এদের ভারসাম্য নষ্ট হলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। জাপানের একদল গবেষক সম্প্রতি এমন দুটি সাধারণ ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো বেশি পরিমাণে থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে।
🔬🤝 দুই ব্যাকটেরিয়ার যৌথ প্রভাব-
গবেষণায় দেখা গেছে, Akkermansia muciniphila এবং Bacteroides thetaiotaomicron—এই দুটি ব্যাকটেরিয়া আলাদাভাবে ক্ষতিকর নয়। এগুলো স্বাভাবিকভাবেই অন্ত্রে থাকে। কিন্তু যখন দুটোরই মাত্রা বেশি হয়ে যায়, তখন তারা একসঙ্গে কাজ করে অন্ত্রের সুরক্ষামূলক শ্লেষ্মা (মিউকাস) স্তর পাতলা করে ফেলে। এই শ্লেষ্মা স্তরই মলকে নরম রাখে এবং সহজে বের হতে সাহায্য করে।
💧🛡️ মিউকাস স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা-
সাধারণভাবে অন্ত্রের মিউকাস পানি ধরে রাখে এবং মলকে পিচ্ছিল রাখে, যাতে তা সহজে চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্ত্রের ভেতরের দেয়ালকে ব্যাকটেরিয়ার সরাসরি সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে।
⚙️🧪 কীভাবে কাজ করে এই প্রক্রিয়া-
Akkermansia muciniphila অন্ত্রের মিউসিন (মিউকাসের প্রধান উপাদান) ভেঙে খায়। তবে এটি সরাসরি তা করতে পারে না; এজন্য Bacteroides thetaiotaomicron কিছু বিশেষ এনজাইম তৈরি করে, যা মিউসিনের রাসায়নিক “সালফেট ট্যাগ” সরিয়ে দেয়। তখন Akkermansia সহজে মিউসিন ভেঙে ফেলতে পারে।
🌵🚶 অতিরিক্ত হলে যে সমস্যা-
এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজনীয় হলেও, যখন দুই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বেশি হয়, তখন ধীরে ধীরে মিউকাস স্তর পাতলা হয়ে যায়। ফলে মল থেকে পানি কমে যায়, তা শুকনো হয়ে পড়ে এবং মলত্যাগ ধীর হয়ে যায়। এই অবস্থাকে গবেষকরা “ব্যাকটেরিয়াল কনস্টিপেশন” নাম দিয়েছেন।
🧠📊 কারা বেশি ঝুঁকিতে?
পার্কিনসন রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অজানা কারণে হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্তদের মধ্যে এই দুই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে।
🐭🔍 গবেষণায় যা দেখা গেছে-
গবেষকরা বিষয়টি বোঝার জন্য জীবাণুমুক্ত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালান। যেসব ইঁদুরকে শুধু একটি ব্যাকটেরিয়া দেওয়া হয়েছিল, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়নি। কিন্তু যাদের দুটিই দেওয়া হয়েছিল, তাদের মলের পরিমাণ কমে যায়, মল শুকনো হয় এবং মিউকাসের মাত্রা কমে যায়।
🧬🔑 জিন পরিবর্তনে সমাধানের ইঙ্গিত-
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—Bacteroides thetaiotaomicron ব্যাকটেরিয়ার একটি নির্দিষ্ট জিন সরিয়ে দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায়। অর্থাৎ ওই জিনের তৈরি এনজাইম না থাকলে মিউসিন সহজে ভাঙতে পারে না।
📌🔎 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা-
গবেষকদের মতে, মলে Akkermansia muciniphila এবং সহযোগী ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা মাপা গেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি আছে কি না বোঝা যেতে পারে।
মানবদেহের ভেতরের এই অদৃশ্য জীবজগত যে কত সূক্ষ্মভাবে আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, এই গবেষণা তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
#MRKR #constipation #health #bacteria #research






