Friday, January 23, 2026

ঘুমের পরিবেশ অন্ধকার রাখা ভালো

 🌑 🌙💤 ভালো ঘুম শুধু আরাম নয়, এটি সুস্থ থাকার একটি মৌলিক শর্ত। অথচ আধুনিক জীবনে আমরা প্রায়ই এই বিষয়টি অবহেলা করি—বিশেষ করে ঘুমানোর পরিবেশ নিয়ে। অনেকেই ঘুমান জ্বালানো বাতি, টিভির আলো বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের পাশে। বিজ্ঞান বলছে, এই অভ্যাস আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।


⏰ মানবদেহের ভেতরে একটি জৈব ঘড়ি কাজ করে, যাকে বলা হয় সার্কেডিয়ান রিদম। এই ঘড়ি মূলত আলো ও অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে। সন্ধ্যা নামলে এবং চারপাশ অন্ধকার হলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে বিশ্রামের সময় এসেছে। তখন পাইনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।



📱 কিন্তু রাতের বেলা চোখে আলো পড়লে—বিশেষ করে উজ্জ্বল বা নীল আলো—মস্তিষ্ক ধরে নেয় এখনো দিন শেষ হয়নি। ফলে মেলাটোনিন নিঃসরণ কমে যায়, ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুম গভীর হয় না। অনেক সময় রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, যদিও তা আমরা মনে রাখতে পারি না।


🫀 গবেষণায় দেখা গেছে, আলোযুক্ত ঘরে ঘুমালে হৃদস্পন্দন ও স্নায়বিক সক্রিয়তা বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর পুরোপুরি বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে না। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।


💡 তবে সব আলো সমান ক্ষতিকর নয়। খুব মৃদু ও উষ্ণ রঙের আলো দূরে থাকলে তার প্রভাব তুলনামূলক কম। মূল সমস্যা হয় যখন আলো উজ্জ্বল, চোখের কাছাকাছি বা দীর্ঘ সময় ধরে উপস্থিত থাকে—যেমন মোবাইল ফোন বা টিভির আলো।


🪟 এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুমের সময় ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা উচিত। জানালা দিয়ে বাইরের আলো ঢোকা বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় লাইট ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখা, প্রয়োজনে ব্ল্যাকআউট পর্দা বা আই মাস্ক ব্যবহার করা—এসব ছোট অভ্যাস ঘুমের মান অনেকটাই উন্নত করতে পারে।


🌌 অন্ধকার কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শরীরের স্বাভাবিক চাহিদা। ভালো ঘুমের জন্য ও দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে চাইলে, ঘুমের পরিবেশকে অন্ধকার রাখা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


#MRKR

No comments:

ত্বকের বয়স কমানো: সম্ভাবনা কতটা, বাস্তবতা কোথায়?

 🧴🔬 মানুষের শরীরে যে অঙ্গটি সবচেয়ে আগে বয়সের ছাপ দেখায়, সেটি হলো ত্বক। মুখে বলিরেখা, ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া, উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া—এসব দে...