Sunday, February 1, 2026

ঘুমের সময় গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ

 😴 💢রাতে ঘুমের সময় মুখ শুকিয়ে যাওয়া (night-time dry mouth / xerostomia) অনেকের জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। সকালে ঘুম ভাঙার পর মুখ আঠালো লাগা, কথা বলতে কষ্ট হওয়া বা তীব্র তৃষ্ণা—সবই এর লক্ষণ। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি সুপরিচিত শারীরবৃত্তীয়, পরিবেশগত ও জীবনযাপনগত কারণ। সহজ ভাষায়, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে বিষয়টি নিচে তুলে ধরা হলো।


🌬️ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া:

নাক বন্ধ থাকা, সাইনাসের প্রদাহ, অ্যালার্জি বা বাঁকা নাসারন্ধ্র (deviated septum) থাকলে অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। ঘুমের সময় মুখ খোলা থাকলে বাতাস সরাসরি মুখগহ্বরের আর্দ্রতা শুকিয়ে দেয়, ফলে লালার সুরক্ষামূলক স্তর ভেঙে যায়।



😪 গভীর ঘুমে লালা নিঃসরণ কমে যাওয়া-

ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবেই লালাগ্রন্থির কার্যকলাপ কমে যায়। এটি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমের অংশ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই নিঃসরণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, বিশেষ করে গভীর ঘুম বা REM ঘুমের সময়, যার ফলে মুখ অত্যধিক শুকনো লাগে।


💊  ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-

৩০০–এর বেশি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তালিকায় “dry mouth” রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

•উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ

•অ্যান্টিহিস্টামিন (অ্যালার্জির ওষুধ)

•বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ওষুধ

•ঘুমের ওষুধ ও ব্যথানাশক


এসব ওষুধ সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে লালাগ্রন্থির সংকেত কমিয়ে দেয়।


😰  মানসিক চাপ ও উদ্বেগ-

দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস sympathetic nervous system সক্রিয় রাখে—যাকে সাধারণভাবে “fight or flight” অবস্থা বলা হয়। এই অবস্থায় শরীর হজম ও লালা তৈরির মতো কাজকে গৌণ করে দেয়, ফলে মুখ শুষ্ক হয়ে পড়ে।


🌡️ পানিশূন্যতা (Dehydration)-

দিনভর পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, অতিরিক্ত চা-কফি পান, জ্বর বা অতিরিক্ত ঘাম—সবই শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে। রাতে শরীর তখন পানি সংরক্ষণে ব্যস্ত থাকে, ফলে লালা উৎপাদন আরও কমে যায়।


🩺 কিছু শারীরিক সমস্যা-

কিছু রোগের ক্ষেত্রে মুখ শুকিয়ে যাওয়াটা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে—

•ডায়াবেটিস

•স্লিপ অ্যাপনিয়া

•থাইরয়েডের সমস্যা

•অটোইমিউন রোগ (যেমন Sjögren’s syndrome)


বিশেষ করে যদি চোখ ও মুখ একসঙ্গে শুষ্ক লাগে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।


🚬 ধূমপান ও অ্যালকোহল:

নিকোটিন লালাগ্রন্থির রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে অ্যালকোহল শরীরকে ডিহাইড্রেট করে এবং মুখের ভেতরের শ্লেষ্মা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে লালা উৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।


🌬️  শুষ্ক পরিবেশ ও এসি ব্যবহার-

এসি, হিটার বা ফ্যানের সরাসরি বাতাস ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। শুষ্ক বাতাসে দীর্ঘ সময় ঘুমালে মুখ ও গলার স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।


🧠 কেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার?


👉লালা শুধু মুখ ভেজা রাখার তরল নয়। এতে রয়েছে—

👉ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী এনজাইম

👉দাঁতের এনামেল রক্ষাকারী খনিজ

👉হজম প্রক্রিয়ার প্রাথমিক উপাদান


দীর্ঘদিন মুখ শুকনো থাকলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ, মুখে ঘা, দুর্গন্ধ এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


🌱 বাস্তবসম্মত করণীয়-


😃ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত পানি পান

👉নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা

👉ধূমপান ও অ্যালকোহল সীমিত করা

👉এসি ব্যবহার করলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার

👉চিনি ছাড়া চুইংগাম বা লজেন্স (দিনে)

👉সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ


✨ রাতে মুখ শুকিয়ে যাওয়া কোনো রহস্যময় ঘটনা নয়, আবার তুচ্ছ বিষয়ও নয়। এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতার একটি নীরব সংকেত। শরীর ছোট লক্ষণে বড় কথা বলে—শোনার অভ্যাসটাই সবচেয়ে বড় যত্ন।

প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যেস স্বাস্থ্যকর জীবন  গড়ে তোলে, ঘুমের সময়টুকুও তার বাইরে নয়।

#MRKR

No comments:

নীরব ঘাতক : উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure)

 🩺  💓 উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলতে বোঝায়—রক্ত যখন ধমনীর দেয়ালের ওপর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অতি...