🍗 🥩পুষ্টিবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত ধারণা সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। একসময় ডিম ছিল “খারাপ”, পরে সেটাই হলো “সুপারফুড”। এখন মুরগি বনাম গরুর মাংস—এই পুরোনো বিতর্কে নতুন আলো পড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল—চিকেন মানেই “হালকা”, “লো-ফ্যাট”, “হার্ট-ফ্রেন্ডলি”; আর বিফ মানেই “রেড মিট”, “স্যাচুরেটেড ফ্যাট”, “ঝুঁকি”। এই ধারণার কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। লাল মাংসে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—চিত্রটি এতটা সরল নয়।
---
🔬 গবেষণা কী বলছে?
নতুন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শুধু “রঙ” দিয়ে মাংসকে ভালো বা খারাপ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে যথেষ্ট নয়।
🔸 প্রসেসড মিট গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি ফ্যাক্টর:
সসেজ, নাগেটস, ডেলি মিট—চিকেন হোক বা বিফ—প্রক্রিয়াজাত মাংস দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। World Health Organization–এর অধীন International Agency for Research on Cancer ২০১৫ সালে প্রসেসড মাংসকে গ্রুপ ১ কার্সিনোজেন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।
🔸 রান্নার পদ্ধতি বড় বিষয়:
উচ্চ তাপে গ্রিল বা ডিপ-ফ্রাই করলে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। এখানে মাংসের ধরন নয়, তাপমাত্রা ও রান্নার কৌশলই বড় ফ্যাক্টর।
🔸 চর্বির পরিমাণ ও কাট নির্ধারক:
লিন বিফ (কম চর্বিযুক্ত অংশ) অনেক সময় স্কিনসহ ভাজা চিকেনের তুলনায় কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট বহন করতে পারে। অর্থাৎ বাস্তব প্লেটের হিসাব তাত্ত্বিক বিভাজনের চেয়ে জটিল।
সুতরাং “চিকেন মানেই ভালো, বিফ মানেই খারাপ”—এটি একটি অতিসরলীকরণ।
🧠 তাহলে আসল প্রশ্ন কী?
মূল বিষয় হলো সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস।
👉 যদি খাদ্যতালিকায় থাকে পর্যাপ্ত সবজি, আঁশযুক্ত খাবার, সম্পূর্ণ শস্য, পরিমিত প্রোটিন এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার—তাহলে মাঝে মাঝে লিন বিফ বা চিকেন—দুটোই ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যের অংশ হতে পারে।
👉 কিন্তু যদি নিয়মিত প্রসেসড মাংস, অতিরিক্ত তেল এবং কম সবজি থাকে—তাহলে মাংসের ধরন বদলালেও স্বাস্থ্যগত ফলাফল খুব একটা পাল্টাবে না।
⚖️ সতর্কতা: প্রেক্ষাপট ছাড়া সিদ্ধান্ত নয়-
এখানে উল্লেখ্য, বেশিরভাগ পুষ্টি গবেষণা পর্যবেক্ষণভিত্তিক (observational)। অর্থাৎ মানুষ কী খায় তা পর্যবেক্ষণ করে রোগের হার তুলনা করা হয়। এতে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করা কঠিন। যারা বেশি লাল মাংস খান, তারা হয়তো কম সবজি খান, কম ব্যায়াম করেন বা ধূমপান বেশি করেন—এগুলো ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
পুষ্টিবিজ্ঞানে “এক লাইনের উপদেশ” প্রায়ই বিভ্রান্তিকর। বয়স, শারীরিক অবস্থা, হৃদরোগের ঝুঁকি, ডায়াবেটিস, কিডনি ফাংশন—সবই বিবেচনায় রাখতে হয়। খাবারকে এককভাবে ভালো বা খারাপ বলা যায় না—প্রশ্ন হলো কতটা, কীভাবে এবং কীসের সঙ্গে।
---
খাবারের জগৎ নৈতিকতার ভাষায় চলে না—চলে জৈব রসায়ন, বিপাকক্রিয়া ও পরিমিতির নিয়মে। মুরগি বা গরু—দুটোই প্রোটিনের উৎস। সুস্বাস্থ্যের রহস্য হয়তো একক উপাদানে নয়, বরং সামগ্রিক ভারসাম্যে।
#MRKR #food #nurtrition #health #healthylifestyle

No comments:
Post a Comment