#ইতিহাস_পঠন
ঢাকা নগরীর ইতিহাসে যে সকল স্থাপত্য নিদর্শন আপন ঐশ্বর্যে যুগের সাক্ষ্য বহন করে, দিলকুশা প্রাসাদ ছিল তার অন্যতম। একসময় ঢাকার নবাবদের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত এই স্থাপনাটি আজ আর অক্ষত নেই, তবে ইতিহাসে তার ছায়া এখনো জীবিত।
ইতিহাস ও নির্মাণকাল:
দিলকুশা প্রাসাদ নির্মিত হয় উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, নবাব খাজা আবদুল গনির আমলে। এটি ছিল নবাব পরিবারের দ্বিতীয় বাসভবন, প্রাথমিকত এটি ‘বাগানবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। দিলকুশা প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল ইংরেজ ভিক্টোরিয়ান এবং মুঘল স্থাপত্যরীতির অপূর্ব সংমিশ্রণে।
স্থাপত্যশৈলী ও পরিবেশ:
দু'তলা বিশিষ্ট এই প্রাসাদের ছাদে ছিল কারুকাজ খচিত রেলিং, নীচতলায় ছিল খোলা বারান্দা ও প্রশস্ত বাগান। চারপাশে ছিল সুবিশাল জলাধার, সবুজ ঘাসে ঘেরা চত্বর। এর পাশে ছিল খেলার মাঠ এবং একটি গোলঘর, যেখানে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হতো।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
ব্রিটিশ আমলে দিলকুশা ছিল নবাবদের সামাজিক ও রাজনৈতিক আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু। বহু বিদেশি অতিথি ও ব্রিটিশ কর্মকর্তা এই প্রাসাদে আতিথেয়তা পেয়েছেন।
দিলকুশা প্রাসাদ ঢাকার অভিজাত ইতিহাসের অন্যতম নীরব সাক্ষী ছিল। ১৯৫০-এর দশকে একটি বিস্ফোরণে প্রাসাদটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়। তারপর ধীরে ধীরে অবশিষ্ট কাঠামোও হারিয়ে যায়। প্রাসাদের সেই স্থানে আজ অনেক উঁচু উঁচু অট্টালিকা গড়ে উঠেছে, কিন্তু দিলকুশা নামটি টিকে আছে একটি এলাকার নাম হিসেবে—‘দিলকুশা কমার্শিয়াল এরিয়া’।
#history #architecture #Dhaka #Bangladesh #trend #photo






